আগের পার্ট এ adsterra এর ইতিবাচক দিক বলা আছে সেটা দেখে আসতে এখানে ক্লিক করুন।
❌ অ্যাডস্টেরার নেতিবাচক দিকসমূহ (Cons)
অ্যাডস্টেরা যেমন আয়ের বড় সুযোগ দেয়, তেমনি এর কিছু গুরুতর নেতিবাচক দিকও আছে যা আপনার ওয়েবসাইটের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে।
১. বিজ্ঞাপনের মান ও সাইটের নিরাপত্তা
অ্যাডস্টেরার বিজ্ঞাপনের উৎস সবসময় প্রিমিয়াম হয় না, যার ফলে অনেক সময় ব্যবহারকারী বিরক্ত হতে পারেন।
- নিম্নমানের কন্টেন্ট: অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে বেটিং, অ্যাডাল্ট বা জুয়া সংক্রান্ত বিষয়বস্তু চলে আসে, যা আপনার সাইটের মান কমিয়ে দেয়।
- ম্যালওয়্যার এবং রিডাইরেক্ট: কিছু বিজ্ঞাপন ভিজিটরকে জোরপূর্বক অন্য কোনো ক্ষতিকারক সাইটে বা প্লে-স্টোরে রিডাইরেক্ট করে দেয়, যা অত্যন্ত নেতিবাচক।
- সফটওয়্যার ডাউনলোড প্রম্পট: অনেক সময় পপ-আপের মাধ্যমে ক্ষতিকারক এক্সটেনশন বা ফাইল ডাউনলোডের অফার আসে যা ইউজারকে বিপদে ফেলতে পারে।
২. ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা (User Experience) নষ্ট হওয়া
একজন ভিজিটর আপনার সাইটে আসেন কন্টেন্ট পড়তে, কিন্তু বিজ্ঞাপনের আধিক্য তাকে সাইট ছাড়তে বাধ্য করতে পারে।
- অত্যধিক পপ-আপ: পপ-আন্ডার বিজ্ঞাপনগুলো বারবার লোড হওয়ার ফলে ভিজিটর বিরক্ত হন এবং সাইটের বাউন্স রেট (Bounce Rate) বহুগুণ বেড়ে যায়।
- বিরক্তিকর ইন্টারফেস: বিশেষ করে মোবাইল ইউজারদের জন্য বারবার বিজ্ঞাপন আসা এবং সেগুলো ক্লোজ করতে না পারাটা চরম যন্ত্রণাদায়ক।
- সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো: প্রফেশনাল কোনো সাইটে যদি বারবার স্প্যামি অ্যাড আসে, তবে ভিজিটররা সেই সাইটকে অনিরাপদ মনে করেন।
৩. এসইও (SEO) এবং গুগলের পেনাল্টি
সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশানের ক্ষেত্রে অ্যাডস্টেরা ব্যবহার করা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
- গুগল সেফ ব্রাউজিং ইস্যু: বিজ্ঞাপনের মান খারাপ হলে গুগল ক্রোম আপনার সাইটকে "Deceptive site ahead" হিসেবে লাল সংকেত দেখাতে পারে।
- র্যাঙ্কিং হারানো: গুগল সবসময় ইউজার এক্সপেরিয়েন্সকে প্রাধান্য দেয়। পপ-আপ এবং রিডাইরেক্ট অ্যাডের কারণে আপনার সাইটের র্যাঙ্কিং নিচে নেমে যেতে পারে।
- স্লো লোডিং স্পিড: অতিরিক্ত স্ক্রিপ্ট বা অ্যাড কোড ব্যবহারের ফলে ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম বেড়ে যায়, যা এসইও-র জন্য ক্ষতিকর।
🛠️ অ্যাডস্টেরা ব্যবহারের প্রফেশনাল টিপস ও কৌশল
আপনি যদি বুদ্ধিমত্তার সাথে অ্যাডস্টেরা ব্যবহার করেন, তবে ঝুঁকি কমিয়ে আয় বাড়ানো সম্ভব।
- অ্যাড ফিল্টারিং: সবসময় সেটিংস থেকে 'Erotic' এবং 'Software with risks' এই ক্যাটাগরিগুলো ব্লক করে রাখুন যাতে ক্লিনি বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়।
- সোশ্যাল বার ব্যবহার: পপ-আপের পরিবর্তে 'Social Bar' ব্যবহার করা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ, কারণ এটি তুলনামূলক কম বিরক্তিকর এবং এতে সি-টি-আর (CTR) ভালো থাকে।
- ব্যাকআপ সাইট: আপনার মেইন এসইও সাইটে এটি ব্যবহার না করে আলাদা কোনো ট্র্যাফিক সাইটে বা ডাউনলোড সাইটে ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
- লিমিটেড অ্যাড কোড: একটি পেজে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২টির বেশি অ্যাড কোড ব্যবহার করবেন না, এতে সাইটের পারফরম্যান্স ঠিক থাকে।
🏁 চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
অ্যাডস্টেরা একটি দুধারী তলোয়ারের মতো। যারা মুভি সাইট, ডাউনলোড পোর্টাল বা সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাফিক নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি সোনার খনি। কিন্তু যারা লং-টার্ম ব্র্যান্ডিং বা প্রফেশনাল ব্লগিং করতে চান, তাদের খুব সাবধানে এটি ব্যবহার করতে হবে। সব মিলিয়ে, অ্যাডসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত বা বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবে অ্যাডস্টেরা একটি চমৎকার ও ভরসাযোগ্য প্ল্যাটফর্ম।

Post a Comment